সারাদেশ

ময়মনসিংহে চলছে একাধিক  অবৈধ মরণঘাতক ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা 

  প্রতিনিধি ২৮ মার্চ ২০২৪ , ৩:০৬:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহে চলছে একাধিক  অবৈধ মরণঘাতক ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা 
ময়মনসিংহে চলছে একাধিক  অবৈধ মরণঘাতক ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা 

ময়মনসিংহের একাধিক সংবাদপত্রে এবং প্রচারমাধ্যমে জানার পর ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন নোটিশের মাধ্যমে কড়া সতর্ক সংকেত দিয়েছিলেন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অদক্ষ লোকজনের মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠান ব্লাড ট্রান্সফিউশন যাকে সোজা বাংলায় বলা হয় ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা করে যাচ্ছে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। 

ময়মনসিংহে চলছে একাধিক  অবৈধ মরণঘাতক ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা 

এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়মবিধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ গেজেটে পরিস্কার ভাবে উল্লেখ করা আছে (ধারাঃ প )  রক্ত পরিসঞ্চালন বিশেষজ্ঞ এম বিবিএস বা সমমানের ডিগ্রীধারী এবং রক্তপরিসঞ্চালন মেডিসিন বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিবিএসএন্ডটি এমটিএম এমডি পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ডাক্তারগণ এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবেন অন্যথায় ইহাকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলিয়া গণ্য করা হইবে।  

এদেশের সাধারন মানুষের দূর্ভাগ্য ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনের নোটিশ জারীর পরপরই দেখা গেলো ময়মনসিংহের প্রায় অর্ধশত অবৈধ ব্লাড ব্যাংক শহরের আনাচে কানাচে অলিতে গলিতে গড়ে উঠলো এবং এইসব অবৈধ রক্ত ব্যবসায়ীরা জোরকদমে ব্লাড ব্যাংক ব্যবসা শুরু করলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এইসব ব্যবসায়ীদের অধিকাংশেরই ব্লাড ট্রান্সফিউশন ব্লাড সংগ্রহ ব্লাড সংরক্ষনে ব্লাড ব্যাংক ব্লাডের পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্লাডের উপাদান নির্ণয় ইত্যাদি না বুঝে শোনেই এমনকি লেখাপড়া না করেই কেমন করে ব্লাডজাত সামগ্রী তৈরী সরবরাহ পরিসঞ্চালন ব্যবসা জমজমাট করে তুলছে যা ময়মনসিংহবাসিকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। 

এদের নেপথ্য শক্তি কারা তাদের চিহ্নিত করতে ময়মনসিংহবাসি জেলা গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে জানিয়েছেন এই মরণঘাতক দুর্বৃত্তরা ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনকে মানেনা তারা নোটিশকে তোয়াক্কা করেনা এমনকি বাংলাদেশ গেজেটের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলে থাকে এই অবৈধ ব্যবসা তারা করেই যাবে, কারণ তারা নাকি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। মরণঘাতী এই দুর্বৃত্তদের নাম এবং মোবাইল নম্বর কোন কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও এই দুর্বৃত্তরা কেন বারবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে  ময়মনসিংহের সাধারন মানুষের সেটা বোধগম্য হচ্ছেনা। 

অথচ একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া ময়মনসিংহে আরও তিনটি ব্লাড ব্যাংক এন্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার রয়েছে। এই তিনটি সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত ব্লাড ব্যাংক হচ্ছে কমিউনিটি বেইজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক এন্ড ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, ২/৮ বাঘমারার নিরাপদ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার এন্ড ব্লাড ব্যাংক এবং ময়মনসিংহ ব্লাড ব্যাংক এন্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টার। 

সূত্রে জানা যায়, দূর্বৃত্তায়নটি চক্রটি নামে বেনামে একাধিক ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার খুলে বসেছে। যেমনঃ রোগী কল্যান ব্লাড ব্যাংক, নিউ নিরাপদ সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন, সেইফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, সেইফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার,  নির্ণয় ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিস সেন্টার ইত্যাদি সহ প্রায় অর্ধশতাধিক সার্ভিস সেন্টারের নামে ভুঁয়া প্যাড বিল ভাউচার সহ নানাবিধ কাগজ পত্র। অভিযোগ রয়েছে নাঈম, তামিম, ফরিদ, ফকরুল এইসব জড়িত চক্রের সদস্যদের নামে। 

ময়মনসিংহবাসি বলেন, এই শহরেই এইসব অবৈধ প্রতারণামূলক ব্লাড ব্যাংক গুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ ও শক্তিশালী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা নিয়ে ময়মনসিংহে কর্তব্যরত জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে এখনই সময় এসেছে এই দুর্বৃত্তদের কঠোর আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে কারণ আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা দুর্বৃত্তদের জন্য এই ব্যবসা প্রতারণার কিন্তু রোগীসাধারনের জন্য এটা মৃত্যুর সামিল।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে  ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা: প্রদীপেশ চক্রর্বতী বাবলা বলেন, নিবন্ধিত ছাড়া কেউ যদি ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করেন তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে ব্লাড ব্যাংক। কিছু ক্লিনিক মালিকদের যোগসাজসে ক্রস মেচিং ছাড়াই রোগীদের মাঝে ব্লাড দিচ্ছেন। কোন অফিস বা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট ছাড়াই নামে-বেনামে সাইনবোর্ডধারীরা ভ্রাম্যমান ফেরির মত বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে তারা এসব কাজগুলো করেন। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি এগুলো বন্ধ করার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্লিনিক মালিক বলেন, এসব নামধারীদের কাছ থেকে ব্লাড নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক রোগীও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তারা এক গ্রুপের ব্লাডধারীকে অন্য গ্রুপের ব্লাড দিতেও দেখা যায় এবং বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে ব্লাড বিক্রিও করে  থাকে এসব চক্র। আমরা এসব চক্রদের হাত থেকে মুক্তি চাই।

লেখক: মোহাম্মদ আলী

আরও খবর

                   

সম্পর্কিত